Midnight Bull

·

Published 10/18/2026
5views

আমার বউয়ের নাম রিয়া। বয়স আটাশ। উচ্চতা পাঁচ ফুট চার। গায়ের রং শ্যামলা, কিন্তু ঠোঁট দুটো গোলাপি। বিয়ের আগে সে ছিল ঢাকার একটা বেসরকারি অফিসে রিসেপশনিস্ট। বিয়ের পর চাকরি ছাড়তে বলেছিলাম, সে রাজি হয়নি। বলেছিল, "তোমার টাকায় আমি খাই না, খেতে চাই না।" এই জেদটাই আমাকে প্রথমে টেনেছিল। এখনো টানে। তবে জেদ আর ভালোবাসা এক জিনিস না, এটা আমি জানি।

আজ তার জন্মদিন। বাইশে বৈশাখ। বাইরে গরমে রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে, ভেতরে এসি ছাড়া একটা সেকেন্ডও টেকা যায় না। সকাল ন'টায় সে অফিসে গেছে, বলেছে আজ কেক কাটবে সহকর্মীদের সাথে, সন্ধ্যায় ফিরবে। আমি বলেছি, ঠিক আছে। ফিরে আয়।

আমি সকাল থেকে ঘরে একা। সোফায় বসে টিভি চালিয়ে রেখেছি, কিন্তু কিছুই দেখছি না। মাথার ভেতরে একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, যেটা আমি গত তিন সপ্তাহ ধরে লালন করেছি। গিফট। কী দেব?

টাকা আছে। গয়না আছে। শাড়ি আছে। কিন্তু কিছুই যথেষ্ট না। এইসব দিয়েছি আগেও। আর এইসব দিয়ে যা হয়, তা হয় না।

গত মাসে এক রাতে রিয়া ঘুমের ঘোরে আমার দিকে পিঠ ফিরিয়ে শুয়েছিল। আমি তার কাঁধে হাত দিয়েছিলাম। সে সরিয়ে দিয়েছিল। ঘুমের ঘোরেই সরিয়ে দিয়েছিল, ভাবো। সেটা আমার মাথায় ঢুকেছিল লোহার পেরেকের মতো। এর মানে কী? এর মানে হলো সে আর চায় না। অথবা চায়, কিন্তু আমার সাথে না।

আমি ইন্টারনেটে খুঁজতে শুরু করলাম। রাত দুটো থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত। কী দিলে বউ খুশি হয়, কী দিলে বউ রাতে জাগে, কী দিলে বউ নিজে থেকে কাছে আসে। উত্তর পেলাম। উত্তরটা কেউ মুখে বলে না, কারণ সমাজ বলে না। কিন্তু উত্তরটা আছে।

আমি একটা অনলাইন পেজ পেলাম। নাম বলব না। পেজটা সিলিকন দিয়ে বানানো জিনিস বিক্রি করে। সাইজ, শেপ, রঙ, সব কাস্টমাইজ করা যায়। আমি একটা অর্ডার করলাম। মাপ দিলাম নিজের হাতের তালু দিয়ে। দৈর্ঘ্য বারো ইঞ্চি। বেড় পাঁচ ইঞ্চি। কালার ন্যাচারাল স্কিন টোন। রিভিউতে লেখা ছিল, "একবার ব্যবহার করলে বউ আর তোমাকে ছাড়বে না।" আমি হেসেছিলাম। তারপর ভেবেছিলাম, যদি সত্যি হয়?

প্যাকেজটা এসেছিল গতকাল। বাদামি কাগজে মোড়া, উপরে কোনো নাম নেই। রিয়া তখন বাথরুমে। আমি বক্সটা নিয়ে আলমারির উপরের তাকে লুকিয়ে রেখেছি। সারাদিন বুক ধড়ফড় করেছে। ভয়? না। লজ্জা? একটু। কিন্তু তার চেয়ে বেশি একটা অদ্ভুত উত্তেজনা, যেটা বিয়ের প্রথম মাসে অনুভব করেছিলাম, তারপর আর কখনো না।

সন্ধ্যা সাতটা। রিয়া ফিরল। হাতে ছোট একটা কেকের বাক্স। গালে হাসি। "তোমার জন্য আনি নি," বলল, "অফিসের ছেলেরা খাইয়ে দিয়েছে।"

আমি বললাম, "ঠিক আছে।"

সে সোফায় বসল, স্যান্ডেল খুলল, পায়ের পাতা নাড়ল। "আজ কী করলে সারাদিন?"

"তোমার জন্য একটা গিফট কিনেছি।"

সে ভুরু তুলল। "কী?"

"খুলে দেখবে?"

মাথা নাড়ল। আমি উঠে গেলাম, আলমারি থেকে বাক্সটা নামালাম। বাদামি কাগজের মোড়কটা ছিঁড়ে গেল আমার হাতেই। ভেতরে সাদা কার্ডবোর্ডের বক্স। রিয়া হাত বাড়াল।

"আমি খুলে দেব," বললাম।

"কেন? আমি পারব না?"

সে বক্স খুলল। ভেতরে টিস্যু পেপার। টিস্যু সরাল। তারপর থেমে গেল।

ঘরটা নীরব। এসির ফ্যান ঘুরছে, শব্দ হচ্ছে ফিসফিস। রিয়া বক্সের দিকে তাকিয়ে আছে। তার আঙুলগুলো কাগজের উপর স্থির। আমি তার মুখ দেখছি। চোখ বড় হয়ে গেছে, কিন্তু ভয়ের জন্য না। অন্য কিছু। আমি ঠিক নাম দিতে পারছি না।

"এটা কী?" বলল, গলা নিচু।

"তুমি জানো এটা কী।"

"তুমি পাগল হয়ে গেছ?"

"হতে পারি।"

সে বক্সের ঢাকনা বন্ধ করে ফেলল। ঠক করে শব্দ হলো। তারপর আমার দিকে তাকাল। চোখে রাগ নেই। লজ্জা নেই। আছে একটা প্রশ্ন, যেটা সে মুখে বলছে না।

"কেন?" বলল শেষে।

"কারণ তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ।"

"তাই?"

"তাই।"

সে উঠে গেল। বক্সটা সোফায় ফেলে রেখে বেডরুমে চলে গেল। দরজা বন্ধ করল। খুব জোরে না। ঠিক জোরে। আমি সোফায় বসলাম, বক্সটা হাতে নিলাম। সিলিকনের জিনিসটা টিস্যুর ভেতরে শুয়ে আছে, ঠান্ডা, ভারী। আমার হাত কাঁপছে। ভাবছি, আমি ভুল করেছি কি? হয়তো করেছি। কিন্তু ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় নেই, আর ফিরিয়ে নিতে চাইও না।

দশ মিনিট পর বেডরুমের দরজা খুলল। রিয়া বেরিয়ে এল। চুল খোলা। শাড়ি বদলে একটা কটন গাউন পরেছে, গাঢ় নীল। পায়ে চটি। এসে সোফার পাশে দাঁড়াল, আমার দিকে তাকিয়ে।

"তুমি জানো," বলল, "আমি তিন মাস ধরে ভাবছি তুমি আমাকে আর চাও না।"

আমি মুখ তুললাম।

"তুমি রাতে শুয়ে পড়ো, পিঠ ফিরিয়ে। সকালে উঠে অফিসে যাও। সপ্তাহে একবার, যদি একবার। আর সেটাও এমনভাবে, যেন দায়িত্ব পালন করছ।"

"তুমি জানলে না কেন বলনি?"

"বলব কীভাবে? বললে তুমি ভাবতে আমি নষ্ট।"

আমি উঠে দাঁড়ালাম। তার হাত ধরলাম। সে ছাড়াল না। আঙুলগুলো ঠান্ডা, কিন্তু কাঁপছে না।

"আমি চাই," বললাম, "তোমাকে। শুধু বলতে পারি না।"

"তাহলে এটা?" সে চিবুক দিয়ে বক্সের দিকে ইশারা করল।

"এটা একটা শুরু। আমি চাই তুমি বুঝো, আমি তোমাকে হারাতে চাই না।"

সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বক্সটা তুলে নিল। টিস্যু সরাল। জিনিসটা বের করল। হাতের তালুতে রাখল, ওজন মাপল। বেড় আঙুল আর বুড়ো আঙুলের মাঝে চেপে ধরল। তার ঠোঁটের কোণে একটা হাসি এল, ছোট, প্রায় অদৃশ্য।

"বারো ইঞ্চি?" বলল।

"হুম।"

"তুমি জানো এটা আমার ভেতরে ঢুকবে না?"

"ঢুকবে।"

সে আমার দিকে তাকাল। চোখে এবার সত্যিই হাসি। "তুমি নিশ্চিত?"

"আমি নিশ্চিত।"

সে জিনিসটা বক্সে ফিরিয়ে রাখল। তারপর আমার গলা জড়িয়ে ধরল। তার শরীর গরম, গায়ে হালকা ঘামের গন্ধ, আর শ্যাম্পুর ফুলের গন্ধ। মুখ আমার কানের কাছে আনল।

"তাহলে আজ রাতে," ফিসফিস করল, "তুমি আমাকে ভাঙো। কিন্তু শর্ত আছে।"

"কী শর্ত?"

"তুমি শুধু দর্শক থাকবে না। তুমি থাকবে।"

আমি তার কোমরে হাত রাখলাম। সে কাঁপল, ছোট একটা কাঁপুনি, যা আমি আমার হাতের তালুতে অনুভব করলাম। আমার বুকের ভেতরে কিছু একটা ভাঙল, আর কিছু একটা তৈরি হলো। আমি জানি না আজ রাতে কী হবে। আমি জানি না সে সত্যিই রাজি হবে কি না, নাকি এই মুহূর্তটা শুধু ক্ষণিকের। কিন্তু আমি জানি একটা জিনিস। আজ রাতে আমি তাকে ছাড়ব না। আজ রাতে সে ঘুমাবে না। আজ রাতে এই ঘরে যা হবে, তা আমাদের বিয়ের চার বছরের হিসাব বদলে দেবে।

সে আমার হাত ধরে বেডরুমের দিকে টানল। বাতি নিভিয়ে দিল। অন্ধকারে তার শ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম, দ্রুত, অপেক্ষায়।



5views

Watch this moment

Turn the current scene into a cinematic Live Chapter — what you watch becomes the story's next part.

Comments

Sign in to join the conversation.

No comments yet. Be the first to share your thoughts.

Disclaimer

This is a work of fiction, assisted by artificial intelligence. Any names or characters, businesses or places, events or incidents, are fictitious. Any resemblance to actual persons, living or dead, or actual events is purely coincidental.

Content Removal Policy

  • Users may report content that may be illegal or violates our Standards.
  • All reported complaints will be reviewed and resolved within seven business days.
  • Review Process: Our team will assess the reported content against our guidelines.
  • Appeals: If you disagree with a decision, you may appeal within 14 days of notification.
  • Potential outcomes include: content removal, account warning, or no action if no violation is found.

To report content, email us at [email protected]